স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে শেষ সাক্ষাতের সেই স্কার্টে এখনো পানি লাগাননি সামিরা !

বাংলা চলচ্চিত্রে আজ থেকে ২৭ বছর আগে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে অভিষেক হয় ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ‘র। এরপরে শুধুই সামনে এগিয়ে যাওয়া এই নায়কের। কিন্তু হঠাৎ করেই কোথায় যেন ছন্দপতন হয়ে যায় তার।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় তার। কিন্তু রূপালি জগতে আসার আগেই সালমান শাহ আর সামিরার প্রেম ছিল।
বাস্তব জীবনেও পর্দার মতোই রোমান্টিক ছিলেন সালমান শাহ। সেই কথাই তুলে ধরেছিলেন অভিনেতার স্ত্রী সামিরা।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রাম ক্লাবে একটি ফ্যাশন শোয়ের আয়োজন করা হয়। ফ্যাশন শোয়ের সদস্য ছিল আমার বাবা। সে হিসেবে আমি ফ্যাশন শো দেখতে গিয়েছিলাম। সেদিন ইমন (সালমান শাহ) নামে একটি ছেলে পারফর্ম করেছিল।

এরপরে শো করে পরিচয় হয় তার সঙ্গে। পরিচয়ের প্রথম কথাতেই ইমন হঠাৎ সবার সামনে আমাকে বলে বসল, তুমি কিন্তু আমার বউ সামিরা বলেন, কথাটা শুনে আমি ভেবেছিলাম ছেলেটা একটা পাগল! পর দিন সকালবেলা ইমন মলি খালাকে নিয়ে আমার আম্মার পার্লারে চলে আসে। তখন সে আমাকে একটি চিঠি দিয়ে যায়।

চিঠিটি ছিল রক্তে লেখা। রক্তের চিঠি দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এর আগেও প্রেমের চিঠি পেয়েছি। কিন্তু রক্তে লেখা চিঠি এই প্রথম, তাই কীভাবে ধরব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। চিঠির শুরুটাই ছিল ‘বউ’ দিয়ে।

এরপর লেখা- প্রথম দেখাতেই আমি বুঝে গেছি আমার জীবনে আমি কাকে চাই। আমি দেখা মাত্রই বুঝে গেছি তুমি আমার। চিঠি লিখেই থেমে জাননি সালমান শাহ। প্রত্যেকদিন সামিরার বাসার সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতেন সালমান শাহ।

সামিরা বলেন, ইমন আগে থেকেই মডেলিং ও টুকটাক নাটকের কাজ করত। শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাকে কিন্তু সময় দিতে ভুল হতো না। প্রেম পর্ব শেষে অবশেষে ১৯৯২ সালে ২০ ডিসেম্বর ধুমধাম করেই সালমান শাহ-সামিরার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর বেশ ভালোই চলছিল তাদের সংসার। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সামিরা একটি স্কার্ট পরেছিলেন। এ পোশাকেই সালমান শাহর সঙ্গে শেষবার দেখা হয় সামিরার। দুঃ’সহ দিনের স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে আজও সেই স্কার্টে পানি লাগাননি সামিরা।

বিষয়টি উল্লেখ করে সামিরা বলেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টম্বর আমি স্কার্ট পরা ছিলাম। সেদিনের সেই স্কার্ট আজও ধুইনি। এই স্কার্টের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইমনের (সালমান শাহ) স্মৃতি। এই পোশাকেই ইমন আমাকে শেষবার দেখেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *