৩০ বছর ধরে দেহ-মনের ব্যথা সারান কবিরাজ শাহিন !

বাতের ব্যথা, দাঁতের ব্যথা, জোড়ায়-জোড়ায়, গিরায়-গিরায় ব্যথা, জয়েন্টে-জয়েন্টে, পয়েন্টে-পয়েন্টে ব্যথা। দেহ-মনের কোনো ব্যথাই আর থাকবে না। আছে মামা শাহিনের ওষুধ, আংটি ও তাবিজ।৩০ বছর ধরে এভাবেই ক্যানভাসিং করে ওষুধ, আংটি, তাবিজ, হাতের বালা, গলার চেইন বিক্রি করেন নিজেকে কবিরাজ দাবি করা মো. শাহিন।সর্ব ব্যথার ওষুধের ফেরিওয়ালা শাহিন কবিরাজের মতো অনেক প্রতারকের দেখা মেলে কুমিল্লা শহরতলীর দৌলতপুরে। যারা নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে নিজেদের পেট চালান।স্বঘোষিত শাহিন কবিরাজ বলেন, নব্বই দশকের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার পাড়া-মহল্লায়

ঘুরে ঘুরে ব্যথার ওষুধ বিক্রি করি।তিনি বলেন, আমার এ ওষুধে জগৎ সংসারের সব ব্যথা দূর হয়। ব্যাথা ছাড়া প্রসাবে জ্বালাপোড়া, স্বপ্নদোষসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাও করি। বিনিময়ে সামান্য হাদিয়া নেই। আমার এসব ওষুধ-তাবিজ টনিকের মতো কাজ করে।এসব তাবিজ কীভাবে তৈরি করেন জানতে চাইলে মামা শাহিন বলেন, দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান গাছের ছাল, শিকড় দিয়ে এসব ওষুধ, তাবিজ তৈরি করি। বড় বড় ডাক্তার যে রোগ সারাতে পারে না, আমার ওষুধে সেসব রোগ সহজেই সেরে যায়।

ওষুধ-তাবিজের ক্রেতা ও দাম সম্পর্কে শাহিন কবিরাজ বলেন, রিকশাওয়ালা, দিনমজুরের মতো নিম্ন আয়ের মানুষই মূলত আমার ওষুধ কেনেন। এ কারণে দিনে এক হাজার টাকার বেশি আয় হয় না।সচেতনদের মতে, এসব গাছের ছাল-শিকড়ের ওষুধ, তাবিজ দিয়ে রোগ সারানো যায় না। এগুলো এক ধরণের প্রতারণা।এ বিষয়ে কুমিল্লারসিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, হাটে-বাজারে সর্বরোগের জান্তা হিসেবে যারা ওষুধ বিক্রি করেন, তারা আইনের চোখে অপরাধী।

তারা পরীক্ষা ও অনুমোদনহীন ওষুধ-তাবিজ দিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে।এসব ভুয়া ডাক্তার-কবিরাজের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, আমরা এরইমধ্যে চিহ্নিত করেছি। আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে শিগগিরই এসব ভণ্ড কবিরাজ-চিকিৎসকদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *